রাকার ঘোরাঘুরির শখ সেই ছোটবেলা থেকেই। স্বচ্ছ জলরাশি সবচেয়ে বেশি টানতো রাকাকে।
রাকা ট্রাভেলিং শুরু করেছেন ২০০৬ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্সে কাজ করার সুবাদে। কাজের সূত্রে বা ট্রেনিং এ ঘুরেছেন বহু জায়গায়। ঝিরিপথ ধরে হেঁটে বেড়িয়েছেন বান্দরবানের গহীনে। অ্যাডভেঞ্চার ট্রেকিং শুরু করেন ২০১৪ সালে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পের মাধ্যমে। ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশ।
ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াতে হলে নারীকে স্বাবলম্বী হতে হবে বলে মনে করেন হানিয়াম মারিয়া রাকা।
দেশের পর্যটনকে তুলে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নারীরা সেভাবে সলো ট্রাভেল বা একাকি কোথাও ঘুরতে যাচ্ছেন কি?
জার্মানির ডিআইএ থেকে অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রথম প্রশিক্ষিত নারী সার্টিফাইড স্কুবা ডাইভিং সার্টিফিকেট। ২০১৫ সালের এপ্রিলে কায়াকিং এর কোর্স করেন নেপালের পাহাড়ি নদী কালিগান্দাকিতে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে চালিয়েছেন নিজেদের কায়াক।
সম্প্রতি রাকা কায়াকিং করে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন কায়াক সঙ্গী সায়মন হোসেনকে নিয়ে। মাত্র ২ ঘণ্টা ৫২ মিনিটে কায়াক করে সেন্টমার্টিন পৌঁছান তারা।
রাকার মতে মানুষ ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু ঘুরে বেড়ানোর নামে মানুষ দেশ নোংরা করছে। সারাবিশ্বে ভ্রমণের কিছু নিয়ম রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত আমরা ব্যক্তিগতভাবে এই শিল্পের ব্যাপারে শিক্ষিত না হবো রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগই আসলে কাজে আসবে না।
নারীদের ট্রাভেলিং এর ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দেন রাকা। শরীরচর্চা করে শারীরিক ভাবেও ফিট থাকার কথা বলেন তিনি। যতটুকু ব্যাকপ্যাক সে বহন করতে পারবে ততটুকু জিনিসই যেন সে নিয়ে যায়। সে যেন অন্য সফর সঙ্গীর বোঝা না হয় সেই ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন রাকা।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে রাকা বলেন,‘একটা ব্যাকপ্যাক ও আরামদায়ক জুতা পুরো ট্রাভেলিং অভিজ্ঞতাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে’।
পারিবারিক বা সামাজিক বাধা ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সবারই সম্মুখীন হতে হয় বলে মনে করেন তিনি। শুধু সমস্যা নিয়ে আলোচনা না করে সমাধান খুজে বের করাকে বেশি প্রাধান্য দেন রাকা।
এসআইএস